উচ্চমাধ্যমিক (HS 4th Semester) বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি থেকে পরীক্ষাপযোগী ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের (ব্যাখ্যাভিত্তিক, বিশ্লেষণাত্মক ও উৎস-তাৎপর্যমূলক) প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর
১. ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’— উক্তিটির উৎস কী? কবি কেন ভয়শূন্য চিত্ত ও উচ্চ শিরের কামনা করেছেন? (১+৪)
উত্তর:
উৎস: উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘প্রার্থনা’ কবিতা থেকে গৃহীত।
ভয়শূন্য চিত্ত ও উচ্চ শিরের কারণ:
পরাধীন ও শৃঙ্খলিত ভারতবর্ষে শাসনকর্তাদের ভয়, সামাজিক অশিক্ষা এবং অন্ধ কুসংস্কারের কারণে মানুষের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে কবি এক অকুতোভয় ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ জাতির স্বপ্ন দেখেছেন:
- আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠা: ভয় মুক্ত না হলে মানুষ কখনো নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না। কবি চান প্রতিটি ভারতবাসী মেরুদণ্ড সোজা করে ও মাথা উঁচু করে বাঁচুক।
- সত্য ও ন্যায়ের প্রকাশ: ভয়ের পরিবেশে মানুষ মিথ্যা ও তোষামোদের আশ্রয় নেয়। মন থেকে ভয় দূর হলেই মানুষ নির্দ্বিধায় সত্য কথা বলতে পারে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে।
- মানসিক স্বাধীনতা: কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়; মনের ভয় দূর হওয়াই হলো প্রকৃত আত্মিক ও বৈপ্লবিক স্বাধীনতা।
২. ‘জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর / আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী / বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি’— উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বিশ্বজনীন মুক্ত চিন্তার এক উদার পরিবেশের চিত্র এঁকেছেন:
- মুক্ত জ্ঞান: জ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, শ্রেণি, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। জ্ঞান হবে সবার জন্য অবাধ ও উন্মুক্ত।
- গৃহের প্রাচীর: ‘গৃহের প্রাচীর’ বলতে কবি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সংকীর্ণতা, প্রাদেশিকতা ও সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিকে বুঝিয়েছেন।
- বসুধাকে খণ্ড না করা: মানুষ যখন নিজের পরিবার, সমাজ বা দেশের ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে দিন-রাত (দিবসশর্বরী) আবদ্ধ থাকে, তখন সে সমগ্র বিশ্বকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করে ফেলে। কবি চেয়েছেন মানুষ যেন এই ক্ষুদ্র প্রাচীর ভেঙে সমগ্র বসুধা বা পৃথিবীকে নিজের প্রাঙ্গণ মনে করে এবং অখণ্ড মানবতাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়।
৩. ‘যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে / উচ্ছ্বসিয়া উঠে’— ‘হৃদয়ের উৎসমুখ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ লেখো। (২+৩)
উত্তর:
হৃদয়ের উৎসমুখ: ‘হৃদয়ের উৎসমুখ’ বলতে মানুষের অন্তরের গভীরতম প্রদেশ, অর্থাৎ মানুষের খাঁটি অনুভূতি ও পরম সততার স্থানকে বোঝানো হয়েছে।
অন্তর্নিহিত অর্থ:
পরাধীন ও ভীতিগ্রস্ত সমাজে মানুষ প্রায়শই ভয়ে, স্বার্থে বা কৃত্রিমতার বশে কথা বলে, যা তার ভেতরের আসল কথা নয়।
- কবি এমন এক স্বাধীন স্বদেশের কামনা করেছেন যেখানে মানুষের কথা হবে সম্পূর্ণ ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারমুক্ত।
- মানুষের মুখ দিয়ে প্রকাশিত প্রতিটি বাণী সরাসরি হৃদয়ের উৎস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত নদীর মতো বেরিয়ে আসবে।
- অর্থাৎ, সমাজে কথা ও কাজের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকবে না; সত্যবাদিতা ও আন্তরিকতাই হবে সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
৪. ‘যেথা নির্বারিত স্রোতে / দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায় / অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়—’— কবি কোন্ কর্মধারার কথা বলেছেন? কীভাবে তা চরিতার্থতা লাভ করে? (২+৩)
উত্তর:
কর্মধারার স্বরূপ:
এখানে কবি মানুষের প্রগতিশীল, সৃষ্টিশীল এবং বাধাহীন কল্যাণমুখী কর্মপ্রবাহের কথা বলেছেন। পরাধীনতার আলস্য ও অলস জড়তা কাটিয়ে দেশের কর্মক্ষমতা যেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
কর্মধারার চরিতার্থতা:
- অবাধ বিস্তার: মানুষের কাজ যেন কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক কৃত্রিম বাধার (‘নির্বারিত স্রোত’) মুখে আটকে না যায়। তা যেন দেশে দেশে ও নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিবিধ সাফল্য: সেই কাজ যেন কেবল গতানুগতিক নিয়মে না হয়, বরং তা ‘অজস্র সহস্রবিধ’ অর্থাৎ নানা রকম সৃষ্টিশীল সফলতা ও সার্থকতা নিয়ে আসে।
- মানুষ যখন মুক্ত পরিবেশে নিজের শ্রম ও মেধা প্রয়োগ করতে পারে, তখনই তার কর্মধারা প্রকৃত সাফল্য অর্জন করে।
৫. ‘যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি / বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,’— রূপকটির অর্থ স্পষ্ট করে পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য লেখো। (২+৩)
উত্তর:
রূপকের অর্থ:
কবি অন্ধ কুসংস্কার ও অর্থহীন রীতিনীতিকে ‘মরুবালুরাশি’ এবং মানুষের যুক্তি ও বিবেকবুদ্ধিকে একটি ‘স্রোতস্বিনী নদী’-র সাথে তুলনা করেছেন।
তাঙ্পর্য:
মরুভূমির বালি যেমন বহমান নদীর জলকে শুষে নিয়ে তার গতি স্তব্ধ করে দেয়, তেমনি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অন্ধ বিশ্বাস ও তুচ্ছ আচার-অনুষ্ঠান মানুষের যুক্তি ও বিবেককে ধ্বংস করে দেয়।
- কবি এমন এক দেশ চেয়েছেন যেখানে মানুষ কোনো কিছুকে চোখ বন্ধ করে মেনে নেবে না।
- মুক্ত চিন্তা ও বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি দিয়েই মানুষ প্রথার মূল্যায়ন করবে।
- সমাজ থেকে অন্ধ সংস্কারের মরুভূমি সরে গিয়ে যুক্তির প্রবহমাণ নদী প্রবাহিত হলেই দেশের প্রকৃত প্রগতি সম্ভব।
৬. ‘পৌরুষেরে করে নি শতধা;’— ‘পৌরুষ’ শব্দটির অর্থ কী? কীভাবে মানুষের পৌরুষ শতধা বিভক্ত হয়ে পড়ে? (১+৪)
উত্তর:
পৌরুষের অর্থ: ‘পৌরুষ’ বলতে মানুষের সাহসিকতা, শক্তি, কর্মক্ষমতা, আত্মমর্যাদা এবং ঐক্যবদ্ধ মানবীয় ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে।
পৌরুষ শতধা বিভক্ত হওয়ার কারণ:
- সংকীর্ণ ভেদবুদ্ধি: ধর্ম, জাতি, বর্ণ এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে মানুষ যখন ছোট ছোট গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তখন জাতীয় শক্তি ভেঙে টুকরো টুকরো (শতধা) হয়ে যায়।
- কুসংস্কারের প্রভাব: অন্ধ আচার ও কুপ্রথা মানুষের স্বাধীন চিন্তাকে পঙ্গু করে দেয়, ফলে মানসিকভাবে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ঐক্যের অভাব: ঐক্যবদ্ধ শক্তিই দেশের মূল ভিত্তি। ভেদাভেদ ও আত্মকলহের ফলে মানুষের শক্তি ও প্রগতির সংকল্প হাজার টুকরোয় বিভক্ত হয়ে জাতিকে নিস্তেজ করে তোলে।
৭. ‘নিত্য যেথা / তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা—’— ঈশ্বরকে কেন সর্ব কর্ম, চিন্তা ও আনন্দের ‘নেতা’ বলা হয়েছে? (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গভীর ঈশ্বরচেতনা ও আধ্যাত্মিক মানবতাবোধ এই পঙ্ক্তিটিতে অত্যন্ত স্পষ্ট:
- কর্মের নেতা: ঈশ্বরই সর্বময় শক্তির উৎস। মানুষের সমস্ত মঙ্গলময় কাজ তখনই সার্থক হয়, যখন তা ঈশ্বরের আদর্শ ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত হয়।
- চিন্তার নেতা: মানুষের মনের ভাবনা যেন পঙ্কিলতা বা সংকীর্ণতায় বিভ্রান্ত না হয়; সত্য ও যুক্তির আলোয় চিন্তা পরিচালনা করার জন্য কবি পরমপিতাকে ভাবনার নেতা করেছেন।
- আনন্দের নেতা: স্বার্থপরতা বা ভোগে প্রকৃত আনন্দ নেই। ঈশ্বরের সান্নিধ্য এবং বিশ্বমানবতার সেবার মধ্যেই রয়েছে নিঃস্বার্থ আনন্দ।
তাই কবি চেয়েছেন ভারতের মানুষের জীবনের প্রতিটি কাজ, ভাবনা ও অনুভূতির মূল চালিকাশক্তি বা পথপ্রদর্শক হন স্বয়ং ঈশ্বর।
৮. ‘নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ, / ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।’— পরমপিতাকে কেন ‘নির্দয় আঘাত’ করতে বলা হয়েছে? ‘সেই স্বর্গ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (৩+২)
উত্তর:
নির্দয় আঘাতের কারণ:
ভারতবাসী দীর্ঘদিনের পরাধীনতা, জড়তা, ভয় ও কুসংস্কারের অতল ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। মিষ্টি কথায় বা মৃদুল কান্নায় এই গভীর ঘুম ভাঙানো সম্ভব নয়।
- যেমন একজন পিতা পরম স্নেহে সন্তানকে শাসন করেন, তেমনি ঈশ্বর যেন কঠোর ও প্রখর আঘাত হেনে ভারতবাসীর অজ্ঞানতা ও মোহ দূর করেন।
- কবি চান ঈশ্বর সমস্ত দুর্বলতা চূর্ণ করে ভারতকে জাগ্রত করুন।
‘সেই স্বর্গ’ বলতে বোঝানো হয়েছে:
‘সেই স্বর্গ’ কোনো অলৌকিক স্থান নয়; এটি কবির কল্পিত এক স্বাধীন, ভয়মুক্ত, যুক্তিবাদী, মুক্তজ্ঞানসম্পন্ন এবং ঐক্যবদ্ধ আদর্শ ভারতবর্ষ।
৯. ‘প্রার্থনা’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (৫)
উত্তর:
নামকরণ যেকোনো সাহিত্যকর্মের মূলভাবকে প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতার নামকরণটি নিম্নোক্ত কারণে সার্থক:
- আঙ্গিকগত দিক: গোটা কবিতাটি পরমপিতা ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে নিবেদিত। কবি তাঁকে ‘তুমি’ এবং ‘পিতঃ’ বলে সম্বোধন করেছেন।
- বিষয়বস্তুগত দিক: এটি কোনো ব্যক্তিগত সুখ-সমৃদ্ধি চাওয়ার প্রার্থনা নয়। এটি সমগ্র জাতির আত্মিক ও নৈতিক মুক্তির নিবেদন।
- আদর্শ স্বদেশের আরজি: কবি এমন এক ভারতের জন্য প্রার্থনা করেছেন যেখানে ভয় থাকবে না, জ্ঞান হবে মুক্ত, বিচারবুদ্ধি থাকবে সজাগ এবং ঈশ্বর হবেন সবার পথপ্রদর্শক।
কবিতাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের কাছে এক মহান জাতীয় জাগরণের সকাতর নিবেদন বা প্রার্থনা। তাই এর নামকরণ সর্বতোভাবে সার্থক।
১০. ‘প্রার্থনা’ কবিতার উৎস নির্দেশ করে কবির মানসিকতার পরিচয় দাও। (১+৪)
উত্তর:
উৎস: ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের ৭২ সংখ্যক কবিতা (১৯০১ সালে প্রকাশিত)।
কবির মানসিকতা:
- দেশপ্রেম ও প্রগতিশীলতা: কবি পরাধীনতার মানসিক গ্লানি থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। তাঁর দেশপ্রেম ভৌগোলিক সীমানায় আটকে না থেকে বিশ্বমানবতায় পৌঁছেছে।
- কুসংস্কার বিরোধিতা: যুক্তি ও বিচারের প্রাধান্য দিয়ে কবি অন্ধ আচার-অনুষ্ঠানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
- ঈশ্বরনির্ভরতা: কবি একজন পরম আদর্শবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের ঐশ্বরিক আলো ও কঠোর শাসনের মাধ্যমেই মানুষ সমস্ত জড়তা কাটিয়ে নতুন স্বর্গে উঠতে পারে।
১১. ‘প্রার্থনা’ কবিতা অবলম্বনে কবির দেশাত্মবোধের পরিচয় দাও। (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রথাগত রাজনৈতিক দেশপ্রেমের চেয়ে এক উচ্চতর মানসিক ও আধ্যাত্মিক দেশাত্মবোধ ফুটে উঠেছে:
- আত্মিক স্বাধীনতা: কবি কেবল ইংরেজ শাসনের থেকে মুক্তি চাননি; তিনি চেয়েছেন মনের ভয়, অজ্ঞানতা ও শৃঙ্খল থেকে দেশবাসীর মুক্তি।
- সংকীর্ণতাহীন জাতীয়তাবাদ: কবির দেশাত্মবোধে সংকীর্ণতার স্থান নেই। তিনি বিশ্ব মানবতাকে বুকে টেনে নেওয়ার মতো উদার ভারত চেয়েছেন।
- সত্য ও যুক্তিনির্ভর স্বদেশ: কবি এমন ভারতের স্বপ্ন দেখেছেন যেখানে মানুষ সত্য বলবে, অন্ধ প্রথা ত্যাগ করবে এবং কর্মধারায় বিশ্ব জয় করবে।
তাঁর দেশাত্মবোধ প্রতিটি নাগরিককে নৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নত করার এক মহান সংকল্প।
১২. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় মুক্ত জ্ঞানের যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো। (৫)
উত্তর:
‘প্রার্থনা’ কবিতায় ‘জ্ঞান যেথা মুক্ত’ পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি জ্ঞানের এক সর্বজনীন ও উদার রূপ তুলে ধরেছেন:
- ভেদাভেদহীন শিক্ষা: জ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ধনী-দরিদ্রের সম্পদে পরিণত হবে না। শিক্ষার আলো সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকবে।
- সংকীর্ণতাহীন দৃষ্টিভঙ্গি: জ্ঞান যেন গৃহের ক্ষুদ্র প্রাচীরের মধ্যে বা সাম্প্রদায়িক চিন্তায় বন্দি না থাকে।
- যুক্তি ও সত্যের চর্চা: মুক্ত জ্ঞান মানুষকে অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করে এবং বিশ্বচেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
কবির মতে, মুক্ত জ্ঞানই একটি জাতির মানসিক দাসত্ব দূর করার সেরা হাতিয়ার।
১৩. ‘বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি’— ‘বসুধা’ শব্দের অর্থ কী? কীভাবে বসুধা খণ্ড-ক্ষুদ্র হয়? (১+৪)
উত্তর:
অর্থ: ‘বসুধা’ শব্দের অর্থ পৃথিবী বা ধরিত্রী।
খণ্ড-ক্ষুদ্র হওয়ার কারণ:
- মনস্তাত্ত্বিক প্রাচীর: মানুষ যখন নিজেকে কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবার, ধর্ম, বা জাতির গণ্ডিতে আটকে রাখে, তখন সে সমগ্র বিশ্বকে নিজের প্রতিপক্ষ মনে করে।
- সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ: ‘আমার দেশই সেরা’— এই অন্ধ মনোভাব ও সীমান্তকেন্দ্রিক বিদ্বেষ সমগ্র মানবজাতিকে টুকরো টুকরো করে তোলে।
- অজ্ঞতা ও অহংকার: দিন-রাত (দিবসশর্বরী) ক্ষুদ্র স্বার্থে মগ্ন থাকার কারণে মানবের উদার দৃষ্টিভঙ্গি নষ্ট হয় এবং পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়ে।
১৪. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কীভাবে অতীত সংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন? (৫)
উত্তর:
‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি প্রথাগত অন্ধ সংস্কারকে চরমভাবে আক্রমণ করেছেন:
- কবি অর্থহীন প্রথা ও কুসংস্কারকে ‘তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি’ বলেছেন।
- মরুভূমি যেমন সজীব নদীকে শুষে নেয়, অন্ধ আচারও তেমনি মানুষের সুস্থ ‘বিচারের স্রোতঃপথ’ বা যুক্তিপ্রবাহকে গ্রাস করে ফেলে।
- প্রথা ও আচারের দাসে পরিণত হলে মানুষের সৃষ্টিশীলতা ও পৌরুষ নষ্ট হয়ে যায়।
কবি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্ধ ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে প্রগতি সম্ভব নয়; তাই যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ ঘটিয়েই জাতিকে জাগ্রত হতে হবে।
১৫. ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাববস্তু আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল ভাববস্তু হলো ভারতবাসীর সর্বাঙ্গীণ জাগরণ ও পরমাত্মার কাছে আত্মিক মুক্তির আকুতি। পরাধীন ভারতে ভয়, অশিক্ষা, প্রথা ও সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন জাতিকে কবি এক নতুন আলোয় দেখতে চেয়েছেন। কবি এমন এক স্বদেশের প্রার্থনা করেছেন যেখানে মানুষ হবে নির্ভীক, জ্ঞান হবে মুক্ত, বিচারবুদ্ধি হবে সজাগ এবং ঈশ্বর হবেন জীবনের নেতা। ঈশ্বর যেন প্রয়োজনে নির্দয় আঘাত হেনে ভারতকে সেই মুক্ত ও সত্যের স্বর্গে জাগিয়ে তোলেন।
১৬. “নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ” — এখানে ‘পিতঃ’ কে? তাঁকে ‘নির্দয় আঘাত’ করতে বলার নেপথ্যে কবির কোন্ ভাবনা কাজ করেছে? (১+৪)
উত্তর:
পিতঃ: এখানে ‘পিতঃ’ বলতে বিশ্ববিধাতা বা পরমপিতা ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে।
ভাবনা:
দীর্ঘকালের দাসত্ব ও অন্ধ সংস্কার ভারতবাসীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক চেতনাকে সুপ্ত করে দিয়েছিল। আলতো স্পর্শে বা মৃদু আহ্বানে এই গভীর মোহভঙ্গ সম্ভব নয়। একজন অভিভাবক যেমন সন্তানের কল্যাণে কঠোর শাসন প্রয়োগ করেন, তেমনই ঈশ্বর যেন কঠোর আঘাত হেনে ভারতবাসীর অজ্ঞানতা ও অলসতার নিদ্রা ভাঙান। কবি বিশ্বাস করেন, সেই দুঃখ ও বেদনাময় আঘাতের মধ্য দিয়েই জাতির আত্মিক পুনর্জন্ম ঘটবে।
১৭. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় আধুনিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা রয়েছে? (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি আধুনিক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত দিকনির্দেশক:
- নির্ভীকতা: অহেতুক ভয় ও ভীতি দূর করে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে শেখায়।
- মুক্ত চিন্তা: কুসংস্কার বা প্রচলিত ভুল ধারণাকে অন্ধভাবে না মেনে যুক্তি দিয়ে বিচার করার শিক্ষা দেয়।
- বিশ্বমানবতা: সংকীর্ণ আঞ্চলিকতা বা সাম্প্রদায়িকতা ভুলে সমগ্র বিশ্বকে আপন ভাবার মানসিকতা গড়ে তোলে।
- সততা ও কর্মোদ্যম: অন্তরের সত্যকে প্রকাশ করা এবং সততার সাথে বিশ্বকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার শিক্ষা দেয়।
১৮. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় ঈশ্বরের ভূমিকা কীরূপ? আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
‘প্রার্থনা’ কবিতায় ঈশ্বর কেবল কোনো দূরবর্তী অলৌকিক সত্তা নন; তিনি জাতির চালিকাশক্তি:
- নেতা ও পথপ্রদর্শক: তিনি মানুষের সমস্ত কাজ, চিন্তা ও আনন্দের প্রধান নেতা।
- সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তি: ঈশ্বরের অস্তিত্বই মানুষকে অন্যায় ও মিথ্যা থেকে দূরে রাখে।
- কঠোর সংস্কারক: তিনি পরম দয়ালু হয়েও প্রয়োজনবোধে নির্দয় আঘাতের মাধ্যমে জাতিকে সুপ্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তোলেন।
ঈশ্বরই হলেন কবির কল্পিত আদর্শ ‘স্বর্গরাজ্য’-এর মূল কারিগর।
১৯. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটিকে কি একটি দেশাত্মবোধক কবিতা বলা চলে? যুক্তিসহ লেখো। (৫)
উত্তর:
হ্যাঁ, ‘প্রার্থনা’ নিঃসন্দেহে একটি উচ্চমার্গের দেশাত্মবোধক কবিতা। তবে এটি সাধারণ যুদ্ধের বা রাজনৈতিক স্লোগানের কবিতা নয়:
- এটি দেশের মানুষের মানসিক ও নৈতিক মুক্তির গান।
- কবি এতে ভৌগোলিক সীমানার চেয়ে দেশবাসীর চরিত্র গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন।
- ভয়শূন্য মন, মুক্ত জ্ঞান, সত্যনিষ্ঠা এবং কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনের মাধ্যমে দেশকে ‘স্বর্গে’ পরিণত করার স্বপ্নই হলো এর প্রকৃত দেশপ্রেম।
২০. ‘দিবসশর্বরী’ শব্দের অর্থ কী? কবিতাটিতে এই শব্দ ব্যবহারের তাৎপর্য কী? (১+৪)
উত্তর:
অর্থ: ‘দিবসশর্বরী’ অর্থ দিন ও রাত, অর্থাৎ সর্বক্ষণ।
তাৎপর্য:
মানুষ যখন নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে দিন-রাত ডুবে থাকে, তখন সে বাইরের বৃহৎ জগৎকে দেখতে পায় না। দিন-রাত ধরে ক্ষুদ্র প্রাঙ্গণে আবদ্ধ থাকার এই চর্চা মানুষকে স্বার্থপর করে তোলে। কবি এই অবিরাম সংকীর্ণ চর্চা বন্ধ করে অখণ্ড বিশ্বচেতনায় জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
২১. ‘প্রার্থনা’ কবিতার রূপকল্প ও ছন্দ বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
- ছন্দ: কবিতাটি প্রথাগত অমিত্রাক্ষর/পয়ারের আদলে রচিত হলেও এর প্রবাহ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও ওজস্বী। এটি একটি চতুর্দশপদী (Sonnet) কাঠামোর কবিতা।
- রূপকল্প: কবি রূপকের ব্যবহারে অসাধারণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। যেমন— প্রথাকে ‘মরুবালুরাশি’ এবং যুক্তিকে ‘স্রোতঃপথ’-এর রূপকে তুলে ধরেছেন।
- ভাষা: কবিতায় ব্যবহৃত তৎসম শব্দাবলী (যেমন— দিবসশর্বরী, চরিতার্থতা, মরুবালুরাশি) কবিতাটিকে এক গাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক উচ্চতা দান করেছে।
২২. ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’— এই বাক্যটির আধুনিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
বর্তমান সমাজেও এই উক্তিটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজ প্রযুক্তিগত উন্নতি হলেও মানুষ রাজনৈতিক ভয়, সামাজিক হেনস্থার ভয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাহীনতায় ভোগে। ভয়মুক্ত মন না থাকলে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ টিকে থাকতে পারে না। মানুষ যখন ভয়হীন হয়, তখনই সে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। তাই একটি সুস্থ ও স্বাধীন সমাজ গঠনে ভয় শূন্য চিত্তের গুরুত্ব অপরিসীম।
২৩. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি ‘পৌরুষ’ শব্দটির মাধ্যমে কী বার্তা দিতে চেয়েছেন? (৫)
উত্তর:
কবিতায় ‘পৌরুষ’ কেবল শারীরিক শক্তি নয়, এটি মানবিক তেজ, মেধা, সাহসিকতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। পরাধীনতা ও অন্ধ প্রথা মানুষের এই তেজকে শত টুকরো করে দুর্বল করে দেয়। কবি বার্তা দিয়েছেন যে, নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ও অন্ধ আচার ত্যাগ করে এই পৌরুষ বা সম্মিলিত শক্তিসামর্থ্যকে ধরে রাখতে হবে, তবেই দেশের উন্নতি সম্ভব।
২৪. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? কাব্যগ্রন্থটির সাধারণ বৈশিষ্ট্য লেখো। (১+৪)
উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ: কবিতাটি ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের (১৯০১) অন্তর্গত।
বৈশিষ্ট্য:
- ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের মূল সুর হলো ঈশ্বরাশ্রিত উপাসনা ও দেশপ্রেমের অপূর্ব সমন্বয়।
- প্রাচীন ভারতের উপনিষদের উদার মানবতাবাদ ও ত্যাগের আদর্শ এই কাব্যের কবিতাবলিকে প্রভাবিত করেছে।
- পরাধীন ভারতের সংকট ও জাতীয় জাগরণের ব্যাকুলতা এই কাব্যের প্রধান উপজীব্য।
২৫. ‘স্বর্গ’ শব্দটির মাধ্যমে কবি প্রার্থনা কবিতায় কী বোঝাতে চেয়েছেন? (৫)
উত্তর:
‘স্বর্গ’ বলতে কবি কোনো কাল্পনিক দেবতা-শাসিত স্থানকে বোঝাননি। কবির কল্পিত স্বর্গ হলো এই মর্ত্য ভূমিতেই গড়ে ওঠা এক আদর্শ সমাজ:
- যেখানে মানুষের মন ভয়মুক্ত এবং মাথা উন্নত।
- যেখানে শিক্ষা ও জ্ঞান সবার জন্য উন্মুক্ত।
- যেখানে মানুষ সত্য কথা বলে এবং অন্ধ প্রথা যুক্তিকে গ্রাস করে না।
- যেখানে ঈশ্বর সর্ব কর্ম ও চিন্তার নেতা।
এমন একটি শৃঙ্খলমুক্ত, উন্নত ও ন্যায়পরায়ণ ভারতবর্ষকেই কবি ‘স্বর্গ’ বলেছেন।
২৬. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় উল্লিখিত ‘মরুবালুরাশি’ এবং ‘স্রোতঃপথ’ শব্দদুটির প্রতীকী অর্থ বিশ্লেষণ করো। (৫)
উত্তর:
- মরুবালুরাশি: মরুভূমির শুষ্ক, জীবনহীন বালুকণা যেভাবে অনূর্বরতা সৃষ্টি করে, ঠিক তেমনি সমাজের অর্থহীন কুসংস্কার ও অন্ধ ঐতিহ্য মানুষের বিকাশ স্তব্ধ করে। এটি সামাজিক স্থবিরতার প্রতীক।
- স্রোতঃপথ: নদীর প্রবহমাণ জলধারা যেমন জীবন ও গতির প্রতীক, মানুষের বিচারবুদ্ধি ও বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিও তেমনি সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি প্রগতির প্রতীক।
কুসংস্কার রূপ মরুবালি যেন যুক্তির প্রবহমাণ নদীকে শুকিয়ে না ফেলে— এটিই কবি বোঝাতে চেয়েছেন।
২৭. ‘যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে / উচ্ছ্বসিয়া উঠে’— বাক্যটির মাধ্যমে কবি সামাজিক যোগাযোগের কোন্ নীতি তুলে ধরেছেন? (৫)
উত্তর:
কবি এই উক্তিটির মাধ্যমে সমাজে সত্যবাদিতা, তোষামোদহীনতা ও আন্তরিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ভীতিপ্রদ সমাজে মানুষ মুখে এক বলে এবং অন্তরে অন্য ভাব পোষণ করে। এই ভণ্ডামি সমাজকে কালিমালিপ্ত করে। কবি চেয়েছেন এমন সমাজ, যেখানে মানুষ যা অনুভব করবে, তা-ই সচ্চরিত্রতার সাথে প্রকাশ করবে। এতে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও প্রকৃত ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
২৮. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় ‘গৃহের প্রাচীর’ কীভাবে মানুষের ক্ষতি করে? (৫)
উত্তর:
‘গৃহের প্রাচীর’ হলো মানুষের মনের সংকীর্ণতা ও বিচ্ছিন্নতাবোধের প্রতীক।
- এটি মানুষকে নিজের ঘর, ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর বাইরে ভাবতে দেয় না।
- এর ফলে মানুষ সমগ্র মানবসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
- এটি সাম্প্রদায়িক হিংসা ও সংকীর্ণ দেশপ্রেমের জন্ম দেয়।
কবি মনে করেন, গৃহের প্রাচীর ভেঙে বিশ্বচেতনায় উ উন্নীত না হলে মানবিকতার বিকাশ অসম্ভব।
২৯. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় উল্লেখিত ঈশ্বরের কঠোর রূপের বর্ণনা দাও। (৫)
উত্তর:
কবিতায় ঈশ্বর কেবল কোমল ও দয়ালু নন, তিনি প্রয়োজনবোধে কঠোর সংস্কারক।
- ভারতবাসী দীর্ঘদিনের অলসতা ও অজ্ঞতার নিদ্রায় সুপ্ত।
- এই ঘুমাচ্ছন্ন জাতিকে জাগাতে মৃদু স্পর্শ বা আবেদন যথেষ্ট নয়।
- তাই কবি পরমপিতাকে ‘নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত’ করতে বলেছেন।
ঈশ্বরের এই কঠোর রূপ আসলে ভালোবাসারই রূপান্তর, যা সন্তানতুল্য জাতিকে কুসংস্কার ও দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে কঠোর শাস্তি বা আঘাত প্রদান করে।
৩০. ‘প্রার্থনা’ কবিতার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ভাবনার কী পরিচয় পাওয়া যায়? (৫)
উত্তর:
কবিতায় কবি বলেছেন— ‘জ্ঞান যেথা মুক্ত’। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ভাবনা ছিল অত্যন্ত উদার:
- শিক্ষা বইয়ের পাতার বা চার দেয়ালের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকবে না।
- শিক্ষা হবে সার্বজনীন— ধর্ম বা অর্থ দিয়ে শিক্ষার অধিকার আটকানো যাবে না।
- শিক্ষা মানুষকে অন্ধ প্রথা থেকে মুক্ত করে যুক্তিবাদী হতে শেখাবে।
- শিক্ষা মানুষকে সমগ্র বিশ্বের সাথে যুক্ত করবে।
৩১. ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি পরিচিতি সংক্ষেপে লেখো। (৫)
উত্তর:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী ও দার্শনিক। ১৯১৩ সালে তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings) কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর রচনায় উপনিষদের দর্শন, প্রগতিশীল মানবতাবাদ ও প্রকৃতির গভীর অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়। ‘প্রার্থনা’ তাঁর দেশপ্রেম ও ঈশ্বরাশ্রিত চেতনার এক অনবদ্য সৃষ্টি।
৩২. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবির মানবতাবাদী দর্শনের পরিচয় দাও। (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ কোনো নির্দিষ্ট সীমান্তে আবদ্ধ ছিল না। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় তিনি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদকে দূরে ঠেলে বিশ্বমানবতার কথা বলেছেন।
- তিনি চেয়েছেন পৃথিবীর কোনো মানুষ যেন খণ্ড- ক্ষুদ্র পরিচয়ে বেঁচে না থাকে।
- মানুষের মুক্তি ঘটবে জ্ঞানের আলোয় ও সত্য বাক্যে।
- সব মানুষের সুমেধা ও প্রগতিই হলো কবির মূল লক্ষ্য। এটিই তাঁর উদাত্ত মানবতাবাদী দর্শন।
৩৩. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় উল্লেখিত ‘চরিতার্থতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (৫)
উত্তর:
‘চরিতার্থতা’ শব্দের অর্থ হলো সাফল্য, সার্থকতা বা আত্মতৃপ্তি। কবিতায় কবি চেয়েছেন মানুষের কর্মধারা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়ে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা যেন ‘অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়’ পূর্ণ হয়। অর্থাৎ মানুষের শ্রম ও কর্ম যেন ব্যর্থ না হয়, তা যেন সমাজ ও জাতির জন্য নানা মাত্রিক কল্যাণ ও সার্থকতা বয়ে আনে।
৩৪. ‘প্রার্থনা’ কবিতার পঙ্ক্তিগুলির মধ্যে কীভাবে একটি থেকে অন্যটিতে অর্থ প্রসারিত হয়েছে? (৫)
উত্তর:
কবিতাটি একটি সুনির্দিষ্ট মানসিক ও সামাজিক অগ্রগতির স্তরে সাজানো:
১. শুরুতেই মানুষের মনের ভয় দূর করা এবং আত্মসম্মান (শির উচ্চ) প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
২. তারপর সেই মুক্ত মনে শিক্ষার আলো (মুক্ত জ্ঞান) প্রবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩. মুক্ত জ্ঞান থেকে মানুষের বাক্যে সততা (হৃদয়ের উৎসমুখ) আসে।
৪. সত্যবাদী মানুষ বাধা অতিক্রম করে কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ে (কর্মধারা)।
৫. অবশেষে কুসংস্কার মুক্ত হয়ে ঈশ্বরকে নেতা মেনে জাতি স্বর্গে উন্নীত হয়।
৩৫. পরাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে ‘প্রার্থনা’ কবিতার গুরুত্ব আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
কবিতাটি রচনার সময় (১৯০১) ভারত ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। পরাধীন জাতির মন ভয়ে আচ্ছন্ন ছিল, শিক্ষায় অনগ্রসরতা ছিল এবং সামাজিকভাবে মানুষ কুসংস্কারে জর্জরিত ছিল। এই পরিস্থিতিতে কবিতাটি ভারতবাসীকে কেবল রাজনৈতিক পরাধীনতা নয়, বরং মানসিক দাসত্ব থেকেও মুক্ত হওয়ার মন্ত্র দিয়েছিল। এটি জাতীয় আন্দোলনকে এক আধ্যাত্মিক ও নৈতিক ভিত্তি প্রদান করেছিল।
৩৬. ‘নিত্য যেথা / তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা—’ পঙ্ক্তিটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে? (৫)
উত্তর:
দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিটি কাজ ও চিন্তাকে যদি সত্য, ন্যায় ও নিষ্ঠার (যা ঈশ্বরের প্রতীক) ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করি, তবে জীবনে পঙ্কিলতা আসতে পারে না। স্বার্থপর চিন্তা ত্যাগ করে অন্যের কল্যাণে কাজ করাই ঈশ্বরকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া। একই সাথে আনন্দকে কেবল ভোগে না খুঁজে সৎকর্মে খোঁজা— এই নীতির মাধ্যমেই সমাজ সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
৩৭. ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাথে রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দেশাত্মবোধক রচনার পার্থক্য কোথায়? (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথের অনেক গানে/কবিতায় প্রত্যক্ষ দেশের মাটির রূপ ফুটে উঠেছে (যেমন: ‘ও আমার দেশের মাটি’)। কিন্তু ‘প্রার্থনা’ কবিতায় দেশের ভৌগোলিক বিবরণ নেই। এখানে দেশপ্রেম রূপ নিয়েছে নীতি, চরিত্র এবং আধ্যাত্মিক মুক্তির ভাবনায়। এখানে দেশের স্বাধীনতার চেয়ে দেশবাসীর মনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
৩৮. ‘বিচারের স্রোতঃপথ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? তা কীভাবে রক্ষিত হতে পারে? (২+৩)
উত্তর:
বিচারের স্রোতঃপথ: এটি মানুষের স্বতস্ফূর্ত যুক্তি, বিজ্ঞানমনস্কতা ও ন্যায়-অন্যায় বোধের প্রতীক।
রক্ষার উপায়:
- সমাজ থেকে তুচ্ছ অন্ধ সংস্কার ও অহেতুক রীতিনীতি দূর করতে হবে।
- মানুষকে অন্ধভাবে কোনো কিছু না মেনে প্রশ্ন করার ও যুক্তি দিয়ে বোঝার স্বাধীনতা দিতে হবে।
- মুক্ত শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে মানুষের চিন্তাকে সজাগ রাখতে হবে।
৩৯. ‘প্রার্থনা’ কবিতার প্রথম দুটি লাইনের ব্যাখ্যা করো। (৫)
উত্তর:
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, / জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর”—
কবিতার সূচনাতেই কবি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের তিনটি মৌলিক গুণ কামনা করেছেন:
১. মানুষের মনে কোনো ভয় থাকবে না।
২. মানুষ আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে।
৩. জ্ঞান লাভ করার অধিকার সবার থাকবে এবং ভেদাভেদের প্রাচীর মানুষকে বিচ্ছিন্ন করবে না। এটি আদর্শ সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর।
৪০. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কি কেবল ভারতের জন্য প্রযোজ্য নাকি সর্বজনীন? আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
কবিতার শেষ লাইনে ‘ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত’ বলা হলেও কবিতাটির অন্তর্নিহিত আবেদন সম্পূর্ণ সর্বজনীন। ভয়হীন মন, মুক্ত জ্ঞান, সত্যবাদিতা, যুক্তিবাদিতা এবং ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের প্রতিটি দেশের এবং প্রতিটি যুগের মানুষের জন্যই সমানভাবে সত্য। তাই এটি কেবল ভারতের নয়, সমগ্র মানবজাতির মুক্তির প্রার্থনা।
৪১. ‘প্রার্থনা’ কবিতার বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তোমার নিজের ভাষায় লেখো। (৫)
উত্তর:
কবিতাটিতে কবি পরমপিতা ঈশ্বরের কাছে এক মুক্ত ও স্বর্গীয় সমাজ গঠনের আবেদন জানিয়েছেন। যেখানে মানুষের মন হবে ভয়হীন, মাথা হবে উঁচু, জ্ঞান হবে উন্মুক্ত। মানুষ গৃহের প্রাচীর তুলে বিশ্বকে খণ্ড করবে না। বাক্য বের হবে অন্তরের সত্য থেকে, কর্মধারা বইবে নির্বিঘ্নে। কুসংস্কার যুক্তির পথ গ্রাস করবে না এবং পৌরুষ ভেঙে যাবে না। ঈশ্বরকে জীবনের নেতা মেনে নির্দয় আঘাতের মাধ্যমে জাতি যেন সেই স্বর্গে জাগ্রত হতে পারে।
৪২. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় উল্লেখিত ‘অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়’ বাক্যাংশটি বিশ্লেষণ করো। (৫)
উত্তর:
মানুষের সৃষ্টির ও কাজের বহুমুখী সার্থকতাকে বোঝাতে কবি এই বাক্যাংশটি ব্যবহার করেছেন। মানুষ যখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তখন তার সাফল্য কেবল একটি নির্দিষ্ট সীমায় আটকে থাকে না। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, সমাজসেবা— সকল ক্ষেত্রে বিচিত্র এবং বিপুল সফলতা আসে। কর্মের এই বিচিত্র ও ব্যাপক বিকাশকেই কবি পরম সার্থকতা বা চরিতার্থতা বলেছেন।
৪৩. ‘প্রার্থনা’ কবিতার রসাস্বাদন করো। (৫)
উত্তর:
‘প্রার্থনা’ কবিতাটিতে শান্ত ও বীর রসের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে। একদিকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনার আকুতি ও শান্ত ভাব, অন্যদিকে কুসংস্কার চূর্ণ করে জাতীয় পৌরুষ জাগ্রত করার এক ওজস্বী বীর ভাব। তৎসম শব্দসমৃদ্ধ গম্ভীর ছন্দ এবং রূপকের চমৎকার ব্যবহার কবিতাটিকে এক অসাধারণ কাব্যিক মহিমা দান করেছে।
৪৪. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি দেশকে ‘স্বর্গ’ করার জন্য ঈশ্বর ও মানুষের ভূমিকা কীভাবে নির্দেশ করেছেন? (৫)
উত্তর:
- মানুষের ভূমিকা: মানুষকে নিজের মনের ভয় কাটাতে হবে, জ্ঞানকে মুক্ত করতে হবে, সত্য কথা বলতে হবে এবং অন্ধ সংস্কার ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
- ঈশ্বরের ভূমিকা: ঈশ্বর মানুষকে এই কাজের প্রেরণা দেবেন, চিন্তায় সঠিক দিকনির্দেশ করবেন এবং প্রয়োজনবোধে কঠোর আঘাত হেনে ঘুমন্ত মানুষকে জাগ্রত করবেন।
৪৫. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবির কাব্যভাষার বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো। (৫)
উত্তর:
- তৎসম শব্দের প্রয়োগ: কবিতায় ‘দিবসশর্বরী’, ‘মরুবালুরাশি’, ‘স্রোতঃপথ’ ইত্যাদি তৎসম শব্দের ব্যবহারে ভাষা গম্ভীর ও প্রাঞ্জল হয়েছে।
- রূপক ও উপমার ব্যবহার: মনের অন্ধত্বকে মরুভূমির সাথে এবং যুক্তিকে নদীর স্রোতের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
- সংক্ষিপ্ততা ও তীব্রতা: মাত্র ১৪ লাইনে কবি একটি পুরো জাতির মুক্তির দর্শনকে অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
৪৬. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটিতে কবির ঈশ্বর ও দেশপ্রেমের যে সমন্বয় ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো। (৫)
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথের কাছে দেশপ্রেম ও ঈশ্বরভাবনা আলাদা নয়। তিনি দেশকে ভালোবাসা মানেই ঈশ্বরকে ভালোবাসা বলে মনে করতেন। দেশের মানুষকে অজ্ঞতা ও দাসত্ব থেকে মুক্ত করা ঈশ্বরের উপাসনারই শামিল। তাই তিনি দেশের মঙ্গলের জন্য রাজনীতিকদের কাছে না গিয়ে পরমপিতা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন। এখানে দেশ হয়ে উঠেছে ঈশ্বরের পুণ্যভূমি।
৪৭. ‘প্রার্থনা’ কবিতার শিক্ষা বর্তমান যুগের ছাত্রসমাজকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারে? (৫)
উত্তর:
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মানসিক চাপ, ভয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সংকীর্ণ ধারণায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ‘প্রার্থনা’ কবিতা তাদের শেখায়:
- কৌতূহলী ও মুক্ত মনের অধিকারী হতে।
- যেকোনো কুসংস্কারকে অন্ধভাবে না মেনে যুক্তি দিয়ে বিচার করতে।
- মিথ্যাচার ত্যাগ করে সত্যবাদী হতে।
- সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে গিয়ে সমাজ ও বিশ্বের কল্যাণে কাজ করতে।
৪৮. ‘প্রার্থনা’ কবিতার শেষ দুটি লাইনের ব্যাখ্যা দাও। (৫)
উত্তর:
“নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ, / ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।”—
কবির মতে, মোহগ্রস্ত ও অলস ভারতবাসীকে সাধারণ অনুরোধে জাগানো যাবে না। তাই ঈশ্বর যেন পরম পিতার অধিকারে অত্যন্ত কঠোর আঘাত হেনে জাতির জড়তা চূর্ণ করেন। সেই দুঃখময় আঘাত ও চেতনার মন্থন থেকেই জন্ম নেবে এক মুক্ত, সত্যবাদী ও জ্ঞানালোকিত স্বাধীন ভারত— যা হবে মর্ত্যের স্বর্গ।
৪৯. ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল সুর কী? (৫)
উত্তর:
‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল সুর হলো আত্মিক মুক্তি ও জাতীয় পুনর্জাগরণ। এটি ভৌগোলিক পরাধীনতার চেয়েও মানুষের মানসিক পরাধীনতাকে ধ্বংস করার আহ্বান জানায়। মুক্ত চিন্তা, অকুতোভয় মন, উদার মানবতাবাদ এবং পরম ঈশ্বরের আদর্শে একটি আদর্শ সমাজ ও দেশ গড়াই এই কবিতার মূল বাণী।
৫০. ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাববস্তুর সারসংক্ষেপ নিজের ভাষায় লেখো। (৫)
উত্তর:
কবিতাটিতে কবি এমন এক স্বাধীন ভারতবর্ষের মানসচিত্র এঁকেছেন যেখানে প্রতিটি মানুষ নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাবান। অশিক্ষা বা কৃত্রিম ভেদাভেদের প্রাচীর জ্ঞান ও বিশ্বচেতনাকে বিভক্ত করবে না। মানুষের মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সত্য বাণী উচ্চারিত হবে এবং তাদের বাধাগ্রস্তহীন কর্মধারা বিশ্বজুড়ে কল্যাণ বয়ে আনবে। অন্ধ সংস্কার যুক্তির প্রবহমাণ পথকে অবরুদ্ধ করবে না এবং মানুষের মানসিক শক্তি টুকরো হয়ে যাবে না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে ঈশ্বরকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়ে এবং তাঁর কঠোর শাসনের আঘাত সহ্য করে ভারতবাসী যেন সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতার এক পবিত্র স্বর্গে উন্নীত হতে পারে— এটাই কবিতার সারসংক্ষেপ।

Leave a Reply